ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির অবস্থান ও বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত সব খুন, গুম ও নির্যাতনের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট জাতিকে আল্লাহতায়ালা ছাত্র, শ্রমিক, যুবক ও জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দুই বছর আগে মুক্তি দিয়েছিলেন। সে সময় যে দলটি আমাদের মতোই নির্যাতিত ও মজলুম ছিল, আজ তারা ক্ষমতায়। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর তাদের সুর পাল্টে গেছে।”
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ফ্যাসিবাদের হাতে সংঘটিত প্রতিটি খুন, গুম ও নির্যাতনের বিচার করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা বিচার করছে না। বরং গত চার মাসে দেশে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নির্মমভাবে নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, এই দল নিজেদের কর্মীদেরও রক্ষা করতে পারেনি। যাদের নিজেদের কর্মীদের প্রতিই দায়বদ্ধতা নেই, তারা ২০ কোটি মানুষের জন্য কতটা দায়বদ্ধ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির কথা বললেও তারা এখন সেই একই পথেই হাঁটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংকে হস্তক্ষেপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার—সব মিলিয়ে তারা আবারও একদলীয় শাসনের দিকেই এগোচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, জেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেও দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্র ও বহুমতের চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
সমাবেশে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “বিচার নিশ্চিত করুন, অন্যথায় জনগণ আপনাদের বিদায়ের পথ তৈরি করবে। বাংলাদেশ বারবার গণআন্দোলন ও বিপ্লবের সাক্ষী হয়েছে।”
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, সংসদে তাদের দল বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রাপ্ত দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না। অনুগ্রহ করে বিচার নিশ্চিত করুন। শুধু অতীতের শাসনামলের অপরাধ নয়, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোরও সুষ্ঠু বিচার হতে হবে।”
তিনি শরিফ উসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এখনো মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি এবং এ ঘটনায় সত্য গোপনের চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, দেশের মানুষের হৃদয়ে ও চেতনায় ইসলামের আদর্শ গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। সেই আদর্শকে নির্মূল করার চেষ্টা সফল হবে না। পাশাপাশি তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।




Comments