প্রতিহিংসা নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা রেখে যেতে চাই: মির্জা ফখরুল
সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ও সর্বসম্মত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি আর নয়, আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা রেখে যেতে চাই।
রোববার (১৯ জুলাই) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিকদের স্মরণে আয়োজিত এক সম্মাননা ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের একটি ‘জুলাই সনদ’ আছে, যা সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত এবং সর্বসম্মত। সেখানে পরিষ্কার বলা আছে, যে বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে পারছে না, তারা যদি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে, তবে নিজেদের মেনিফেস্টো অনুযায়ী কাজ করবে। কিন্তু আমরা যেন এই বিষয়টিকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছি। এই বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত।
তিতুমীরের আমল কিংবা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, আন্দোলন আমরা বহু করেছি, রক্তও বহু দিয়েছি। এবার আমরা আলোচনার মাধ্যমে পার্লামেন্টের ভেতরে সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছাতে পারি কি না, তা দেখা উচিত।
সংবিধান পরিবর্তনের জন্য গঠিত দ্বিদলীয় কমিটির কথা উল্লেখ করে সব পক্ষকে সেখানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমার আহ্বান থাকবে তারা যেন এই কমিটিতে আসেন, যোগ দেন এবং সংবিধানের যে বিষয়গুলো পরিবর্তন করা দরকার, সেখানে সহযোগিতা করেন। আমার এই শেষ বয়সে এটাই দেখতে চাই যে, আলোচনার মাধ্যমে আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছাই যেখানে পরবর্তী প্রজন্মকে অন্তত বলতে পারব তোমাদের জন্য একটা ব্যবস্থা তৈরি করেছি, যেখানে আর মারামারি-কাটাকাটি বা প্রাণ দিতে হবে না।
মন্ত্রী বলেন, আজকে যারা শহীদ মাতা ও শহীদদের স্ত্রী আছেন, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব অনেক। মাহমুদুর রহমান ভাইরা উদ্যোগ নিয়েছেন, কাজ করছেন। সরকারের তরফ থেকেও কিছু কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হয়তো তা অপ্রতুল, তারপরও চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যাতে দ্রুততার সঙ্গে আরও বেশি করে শহীদ পরিবারের সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায় এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো যায়।




Comments