মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বছরের শুরুতেই এক চমৎকার মহাজাগতিক দৃশ্য অপেক্ষা করছে। খুব শিগগিরই আকাশে উঁকি দিতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম ‘সুপারমুন’। কক্ষপথে আবর্তনের সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছায় এবং তখন যদি পূর্ণিমা হয়, তবে সেই চাঁদকে ‘সুপারমুন’ বলা হয়।
আগামী রোববার বছরের প্রথম পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ চাঁদ তার পূর্ণতম অবস্থায় পৌঁছাবে। তবে শুক্রবার রাত থেকেই আকাশে চাঁদটিকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বড় ও উজ্জ্বল গোলকের মতো দেখা যাবে। উল্লেখ্য যে, গত বছরের অক্টোবর থেকে টানা সুপারমুন দেখা যাওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, রোববারের চাঁদটি হতে যাচ্ছে সেই পর্যায়ের শেষ পর্ব।
পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্বের চেয়ে এই সময় চাঁদ অনেকটা কাছে চলে আসে। ফলে সুপারমুনের সময় চাঁদকে সাধারণ পূর্ণিমার চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখায়। অতিরিক্ত উজ্জ্বলতার কারণে পুরো আকাশ এই আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে থাকে।
জানুয়ারি মাসের এই পূর্ণিমাকে বিভিন্ন দেশে ঐতিহ্যগতভাবে ‘উলফ মুন’ (Wolf Moon), ‘কোল্ড মুন’ বা ‘হার্ড মুন’ নামেও ডাকা হয়। প্রাচীন লোককথা ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে এই নামগুলো দেওয়া হয়েছে।
সুপারমুন দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতি বা টেলিস্কোপের প্রয়োজন হয় না। খালি চোখেই এই দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তবে দিগন্তরেখায় থাকা বড় বড় ভবন বা গাছের পাশে চাঁদকে দেখলে এর বিশালতা আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এ বছর জানুয়ারির এই চাঁদটি আকাশের অনেক উঁচুতে অবস্থান করবে, ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে এটি দেখা যাবে।
বর্তমানে আকাশে ‘কোয়াড্রান্টিড’ উল্কাবৃষ্টি চলছে। তবে সুপারমুনের তীব্র উজ্জ্বলতার কারণে এই উল্কাবৃষ্টি দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। চাঁদের প্রখর আলোয় ছোট বা আবছা উল্কাগুলো ঢাকা পড়ে যাওয়ায় মহাকাশপ্রেমীদের জন্য উল্কা দেখার অভিজ্ঞতা কিছুটা কম রোমাঞ্চকর হতে পারে।
বছরের প্রথম এই মহাজাগতিক আনন্দ উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। কোনো কোলাহলমুক্ত পরিবেশ বা খোলা জায়গা থেকে এই বিশাল চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।
মানবকন্ঠ/আরআই




Comments