Image description

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হলেও বরিশালের ৬টি আসনে এখনো একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি ইসলামী সমমনা ১২ দলীয় জোট। ফলে একই আসনে জোটের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জোট সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বড় লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই জোটে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ মোট ১২টি দল। তবে বরিশালের আসনগুলোতে আসন ভাগাভাগি বা একক প্রার্থী নির্ধারণে সমঝোতা না হওয়ায় ১৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আসনভিত্তিক প্রার্থীদের চিত্র

১. বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): এখানে জামায়াতে ইসলামীর মো. কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলনের মো. রাসেল সরদারের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

২. বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): এ আসনে লড়াইয়ে আছেন জামায়াতের আবদুল মান্নান মাস্টার, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন।

৩. বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ): এখানে ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ও এবি পার্টির মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভুইয়া মাঠে রয়েছেন। তবে জামায়াত প্রার্থী জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর জোটের স্বার্থে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

৪. বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা): এ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার ও ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এহছাক মো. আবুল খায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৫. বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন): এটি জোটের জন্য সবচেয়ে আলোচিত ও মর্যাদার আসন। এখানে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম প্রার্থী হয়েছেন। চরমোনাই পীরের দরবার এই আসনে হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন এখানে অনড়, অন্যদিকে জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে তারাও ছাড় দিতে নারাজ।

৬. বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): এ আসনেও মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (ইসলামী আন্দোলন) ও মো. মাহমুদুন্নবী (জামায়াত) বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।

সদর আসনের ভোটাররা জানান, একই আদর্শের একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে জোটের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে। ভোটারদের প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত জোটের প্রকৃত প্রতিনিধি কে হবেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসন সমঝোতা না হলে এই বিভক্তি নির্বাচনে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই ভোটব্যাংকে একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জোটের প্রার্থীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে যে সিদ্ধান্ত আসবে, শেষ পর্যন্ত তারা সেটিই মেনে নেবেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর