Image description

জানুয়ারির হাড়কাঁপানো শীতে যখন ভারি পোশাকেও শরীর গরম করা দায়, তখন হঠাৎ ঘাম হওয়াটা অনেকের কাছেই রহস্যময় ও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। সাধারণভাবে ঘাম গরমের লক্ষণ হলেও শীতের এই ‘ঠান্ডা ঘাম’ মোটেও স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি শরীরের ভেতরের কোনো জটিল সমস্যার আগাম সংকেত হতে পারে।

আমাদের শরীরে দুই ধরনের ঘাম গ্রন্থি থাকে। ‘একক্রাইন’ গ্রন্থি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, আর ‘এপোক্রাইন’ গ্রন্থি মূলত মানসিক চাপ বা হরমোনের পরিবর্তনের সময় সক্রিয় হয়। শীতের দিনে ঘাম মূলত এপোক্রাইন গ্রন্থির কারণেই হয়ে থাকে, যা শরীরের হঠাৎ কোনো শারীরিক বা মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া।

চিকিৎসকরা ঠান্ডা ঘামের পেছনে বেশ কিছু গুরুতর কারণ চিহ্নিত করেছেন:

১. হার্ট অ্যাটাক: যদি বুকে ব্যথার পাশাপাশি হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম শুরু হয়, তবে তা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, প্যানিক অ্যাটাক বা ফোবিয়া থেকে শরীর হঠাৎ ঘেমে উঠতে পারে।
৩. রক্তে শর্করার স্বল্পতা: বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে সুগার কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) শরীরে ঠান্ডা ঘাম দেখা দেয়।
৪. অক্সিজেনের অভাব: শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে (হাইপক্সিয়া) এমন ঘাম হতে পারে।
৫. সংক্রমণ: যক্ষ্মা বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংক্রমণের ফলেও এই সমস্যা হতে পারে।
৬. হরমোনজনিত কারণ: নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ বা হরমোন পরিবর্তনের কারণে রাতে হঠাৎ ঘাম বা ‘হট ফ্ল্যাশ’ হতে পারে।

ঠান্ডা ঘাম সাধারণ ঘামের মতো শরীরকে উষ্ণ করে না। এতে ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়, শরীর স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় এবং ঘাম হওয়ার পর হঠাৎ তীব্র শীত বা কাঁপুনি অনুভূত হতে পারে।

শীতের দিনে এমন অস্বাভাবিক ঘাম হলে চিকিৎসকরা কিছু নিয়ম মানার পরামর্শ দিয়েছেন:

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এড়াতে নিয়মিত মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।

ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত রক্তের শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।

যদি ঘামের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা মাথা ঘোরানোর মতো উপসর্গ থাকে, তবে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

চিকিৎসকদের মতে, ঘাম শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও ঋতু ও পরিস্থিতির বিচারে এর ভিন্নতা বোঝা জরুরি। শীতে বারবার এমনটি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

মানবকণ্ঠ/আরআই