Image description

নির্বাচন এলেই স্বপ্ন দেখেন। মনোনয়ন জমা দেন। আর যাচাই-বাছাইয়ের টেবিলেই বারবার ভেঙে পড়ে সেই স্বপ্ন। তবু থেমে যান না। মানিকগঞ্জের ঘিওরের কৃষক আব্দুল আলী বেপারীর এমপি হওয়ার লড়াই যেন এক অদম্য গল্প।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও শুরুতে তার ভাগ্যে জুটেছিল পরিচিত দৃশ্য-মনোনয়ন বাতিল। কারণ সেই এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর; কিন্তু এবার আর হাল ছাড়েননি ৬৭ বছর বয়সি এই কৃষক। শেষ আশ্রয় হিসেবে দ্বারস্থ হন উচ্চ আদালতের। আর সেখানেই ঘটল নাটকীয় মোড়। 

ওয়ান পারসেন্টের গ্যাড়াকল থেকে শেষ মুহূর্তে মুক্তি মিলল তার। বৃহস্পতিবার  হাইকোর্ট আব্দুল আলী বেপারীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেন। তার পছন্দের প্রতীক হাতি ছিল; কিন্তু ভাগ্যে মিলে হরিণ। গত বৃহস্পতিবার একেবারে শেষ সময়ে আদালতের রায়ের কপি রোববার পৌঁছায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন নাহার সুলতানার হাতে।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় যাচাই-বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। একই পরিণতি হয়েছিল ২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও।

ঘিওর উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত কিয়ামুদ্দিনের ছেলে আব্দুল আলী বেপারী পেশায় কৃষক। শিক্ষাজীবনে তিনি স্বশিক্ষিত। 

রাজনৈতিক মাঠে তার লড়াইয়ের ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালে ঘিওরের সিংজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তিনবার নির্বাচন করেছেন। তিনবারই পরাজয় সঙ্গী হয়েছে। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখতে গিয়েও বারবার আইনি ও কাঠামোগত বাধায় থমকে গেছে তার পথচলা।

তবে ২০২৩ সালের দৃশ্য আর এবার নেই। তখন মনোনয়ন বাতিলের খবরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে শান্ত করে আপিলের পরামর্শ দেন। এবার তিনি আরও দৃঢ়, আরও প্রস্তুত।

মনোনয়ন বাতিলের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আপিল করবেন কিনা, তা পরিবার নিয়ে আলোচনা করে ঠিক করবেন। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের বিধান বাতিলের দাবি জানান। তার ভাষায়, এই শর্ত সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের জন্য বড় বাধা।