এমি পুরস্কার বিজয়ী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বিসান ওউদা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ (ব্যান) করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগকারীদের হাতে টিকটকের মালিকানা যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।
গাজা থেকে আল জাজিরার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এর হয়ে কাজ করা বিসান বুধবার তার ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, "টিকটক আমার অ্যাকাউন্টটি মুছে দিয়েছে। সেখানে আমার ১.৪ মিলিয়ন (১৪ লাখ) ফলোয়ার ছিল এবং চার বছর ধরে আমি সেই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে তুলেছিলাম।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি ভেবেছিলাম তারা হয়তো বরাবরের মতো কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করবে, কিন্তু তারা আমাকে চিরতরে নিষিদ্ধ করে দেবে—সেটা ভাবিনি।"
নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ?
বিসান তার ভিডিওতে এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্য এবং টিকটকের মার্কিন শাখার নতুন সিইও অ্যাডাম প্রেসারের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ইসরায়েলপন্থি ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বড় যুদ্ধের ময়দান এবং তিনি আশা করেন টিকটক ‘ক্রয়’ করার প্রক্রিয়াটি সফল হবে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু তখন বলেছিলেন, "টিকটকের মালিকানা পরিবর্তন হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি যুদ্ধের ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে টিকটক ঘোষণা করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের একটি পৃথক সত্তা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, টিকটকের বর্তমান সিইও অ্যাডাম প্রেসারের একটি ভিডিও বিসান শেয়ার করেছেন, যেখানে প্রেসার বলছেন যে টিকটকে ‘জায়নবাদী’ (Zionist) শব্দটিকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা 'হেট স্পিচ' হিসেবে গণ্য করা হবে।
কে এই বিসান ওউদা?
বিসান ওউদা গাজা যুদ্ধের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। তার প্রতিটি ভিডিওর শুরুতে বলা বাক্য— "ইটস বিসান ফ্রম গাজা অ্যান্ড আই অ্যাম স্টিল অ্যালাইভ" (আমি গাজা থেকে বিসান বলছি এবং আমি এখনো বেঁচে আছি)—অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
গাজার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্মিত তার একটি তথ্যচিত্র ২০২৪ সালে সংবাদ বিভাগে সম্মানজনক ‘এমি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে।
গাজায় সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন
বিসানের টিকটক অ্যাকাউন্ট এমন এক সময়ে নিষিদ্ধ হলো যখন গাজায় সাংবাদিকদের প্রবেশের ওপর ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে রেখেছে। বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দেয়নি ইসরায়েলের আদালত।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ২০৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েলি হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হন।
আল জাজিরা এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে টিকটক কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।




Comments