অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতীকী বইমেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’। বাংলা একাডেমির সম্মতি নিয়েই এই প্রতীকী মেলার পাশাপাশি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্নারের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অমর একুশের বইমেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে সরকার ও বাংলা একাডেমি ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা লেখক, পাঠক, প্রকাশক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকেই বইমেলা শুরু হয়ে আসছে এবং এটি দেশের সবচেয়ে বড় সৃজনশীল সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরেই মেলার তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং লেখক, প্রকাশক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়। তাদের মতে, নির্বাচন উপলক্ষে প্রয়োজনে কয়েকদিন মেলা বন্ধ রেখে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই বইমেলা শুরু করা সম্ভব ছিল, কিন্তু সে পথ অনুসরণ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বইমেলার তারিখ পরিবর্তন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই প্রেক্ষাপটে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই ১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতীকী বইমেলার উদ্বোধন করা হবে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মেলার উদ্বোধন করবেন।
আয়োজকেরা জানান, এই আয়োজন নিয়ে বাংলা একাডেমির সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই এবং ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মূল বইমেলায় প্রতীকী মেলার প্রকাশকেরাও অংশ নেবেন। এখন পর্যন্ত ৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের সম্মতি জানিয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে।
প্রতীকী বইমেলায় সারা দিনব্যাপী আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত ও নাটকসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভাষার মাসের প্রথম দিনকে ঘিরে বাংলা সংস্কৃতিপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতির আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকেরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments