Image description

বিদেশিদের এনসিটি টার্মিনাল দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ রয়েছে। শনিবারের মতো আজও সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ধর্মঘট। চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। 

শনিবার শুধু অপারেশনাল কাজ বন্ধ থাকলেও আজ রোববার প্রশাসনিক কাজও বন্ধ রেখেছেন তারা। বন্দরের ভেতরে সীমিত পরিসরে কিছু কাজ চললেও পণ‍্য ওঠা-নামার মূল কাজ বন্ধ রয়েছে। অপারেটর না আসায় চলছে না যন্ত্রপাতিও।

এদিকে আন্দোলনে থাকায় বদলি করা চট্টগ্রাম বন্দরের চার কর্মচারী হলেন- অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির (অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগ), ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকন (১ম শ্রেণি-নৌ বিভাগ), উচ্চ হিসাব সহকারী মো. আনোয়ারুল আজিম (অর্থ ও হিসাব বিভাগ), এস এস খালাসী ​মো. ফরিদুর রহমান (প্রকৌশল বিভাগ)।

এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ৩১ জানুয়ারি বিকেলে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হলো এবং তাদের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হলো। কিন্তু বদলিকৃতরা এ নির্দেশ না মেনে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

বদলি আদেশ পাওয়া আন্দোলনকারী নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বিদেশিদের এনসিটি টার্মিনাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবো আমরা। বদলি করে কিংবা তদন্ত কমিটি করে ভয় লাগাতে পারবে না হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীকে। রোববার যথাসময়ে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি। আজ আরও তীব্র হয়েছে আন্দোলন।’

এদিকে বন্দরে ধর্মঘট ডাকার ঘটনায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে গতকাল ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য প্রকৌশল কমোডর মো. মাযহারুল ইসলাম জুয়েলকে প্রধান করে গঠিত হয়েছে এই তদন্ত কমিটি। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বন্দরের চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী চার কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বদলি করা হয়েছে।

বন্দর জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বোটসোয়া) সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, ‘জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গতকালের মতো আজও সকাল আটটা থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দেয়নি।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ আদেশ না মানলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ার করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর আজ সকালে বন্দর ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।