Image description

আশিয়ান মেডিকেল কলেজের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণিল পিঠা উৎসব ক্যাম্পাসকে করে তুলেছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলা। শীতের আমেজে ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলির সুবাস আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। এই আয়োজন শুধু উৎসবই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আশিয়ান গ্রুপ আজ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনের ক্ষেত্রে দেশের একটি অন্যতম নাম। তিনি আশিয়ান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা এবং উন্নত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে আলো ছড়িয়েছেন। তার স্বপ্ন ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এই প্রতিষ্ঠানটি আজ ঢাকার খিলক্ষেতে অবস্থিত একটি আধুনিক ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশিয়ান গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। তাঁর সহধর্মিণীসহ অতিথিরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন।

আশিয়ান এডুকেশন লিমিটেডের সিইও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) খন্দকার শফিউর রহমান বলেন, “আশিয়ান মেডিকেল কলেজের সুনাম সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং বিএমডিসি, ডব্লিউএইচওসহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের এমবিবিএস শিক্ষার নিশ্চয়তা দেয়।

আশিয়ান মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল প্রফেসর ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই আয়োজন আমাদের ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। আগামীতেও আশিয়ান মেডিকেল কলেজ শিক্ষা ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় আরও এগিয়ে যাবে।”

আশিয়ান মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আবুল ফজল বলেন, “যুগ যুগ ধরে গ্রাম বাংলার অতিথেয়তা ও ঐতিহ্য আশিয়ান সিটির বুকে ধারণ করে চলেছি। আশিয়ান মেডিকেল কলেজ আমাদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার একটি স্বপ্ন—এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব।”

পিঠা উৎসবে বিভিন্ন স্টলে সাজানো ছিল ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই পিঠা, দুধ চিতই, ভাজা পিঠাসহ নানা রকম ঐতিহ্যবাহী পিঠা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধানরা অংশগ্রহণ করে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা গ্রাম বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।

আশিয়ান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শুধু চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সমাজের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই গ্রুপ ভবিষ্যতেও দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলছে, যা একটি উন্নত ও সংস্কৃতিবান সমাজ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।