জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন অমর একুশে বইমেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতিও এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সরেজমিন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দেখা যায়, স্টল নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। বাঁশের কাঠামোয় স্টলের অবয়ব দাঁড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে চলছে স্টল বিন্যাস ও বরাদ্দ-সংক্রান্ত চূড়ান্তের কাজ। এসব কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্তরা।
প্রকাশকদের দাবির প্রেক্ষিতে এবার স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। মেলা পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা জানা, এ বছর ৫৫৪টি প্রকাশনা ও প্রতিষ্ঠানকে ৮৫৬টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্টল ভাড়ার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আগের বছরের মতো এবারও বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তৃত এলাকায়।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এবার এ পর্যন্ত ৫৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৯১টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখানে থাকছে একটি প্যাভিলিয়ন। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে এ পর্যন্ত ৪৯৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৫টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ অংশে থাকছে ৩৬টি প্যাভিলিয়ন। সব মিলিয়ে এ বছর বইমেলায় ৩৭টি প্যাভিলিয়ন থাকছে বলে জানা যায় মেলা পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে। এ পর্যন্ত ৮১টি লিটল ম্যাগাজিনকেও ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
একুশে বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা বলেন, প্রাথমিক বরাদ্দ তালিকা এটা। এখনও কিছু প্রকাশনার আবেদন রয়েছে। সব আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে প্রকাশকদের একাংশ বইমেলা রমজানের পর আয়োজনের দাবি জানিয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির কাছে চিঠি দিয়েছে। তবে আয়োজকদের ভাষ্য, এ মুহূর্তে ঈদের পর মেলা আয়োজনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। কারণ, মেলার ৩০ শতাংশের বেশি প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।




Comments