ভোটে জেতার জন্য ভোটারদের টাকা দিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এক প্রার্থী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি। পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে এবার ভোটারদের দেওয়া সেই টাকা ফেরত নিতে বাড়ি বাড়ি হানা দিচ্ছেন পরাজিত প্রার্থীর স্ত্রী। রীতিমতো খাতা-কলম নিয়ে হিসেব মিলিয়ে টাকা আদায়ের এই অদ্ভুত ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের মাঞ্চেরিয়াল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে।
জানা গেছে, মাঞ্চেরিয়াল মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের ৯ নম্বর ডিভিশন থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জাদি তিরুপতি। নির্বাচনে তিনি কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে মাত্র ১৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, অনেক ভোটার টাকা নিয়েও তাকে ভোট দেননি। এই হতাশায় তিরুপতির স্ত্রী রূপা ওই এলাকার ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রূপা খাতা-কলম হাতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন এবং ভোটারদের জিজ্ঞেস করছেন তারা তিরুপতিকে ভোট দিয়েছেন কি না। শুধু তাই নয়, ভোটারদের বিশ্বাস করতে না পেরে তিনি তাদের ঈশ্বরের নামে শপথ করতে বাধ্য করছেন। যারা স্বীকার করছেন যে তারা অন্য প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি দেওয়া ৩ হাজার রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) তৎক্ষণাৎ ফেরত নিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনে জয়ের জন্য অর্থের প্রলোভন দেখানো নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এরপরও পরাজিত হয়ে প্রকাশ্যে সেই টাকা ফেরত চাওয়ার ঘটনায় তেলেঙ্গানার স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের তামাশা’ বলে অভিহিত করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটারদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচারণা চালালেও, এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটিতে এখনো অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা-বেচার সংস্কৃতি কতটা প্রকট।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments