ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উচ্চপর্যায়ের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজকে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী চাইলে আগামী শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই হামলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
সূত্রমতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং এর রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতির কথা বিবেচনা করে হোয়াইট হাউজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার পর ইরান যদি পাল্টা আক্রমণ চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সামরিক কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। চলতি বছরের মার্চের মধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন বাহিনী পূর্ণ শক্তিতে অবস্থান নেবে।
এদিকে বুধবার হোয়াইট হাউজের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরানে হামলার পক্ষে অনেক যুক্তি ও কারণ রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হলো কূটনীতি।
তিনি আরও জানান, গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছিল। বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি। তাই ইরানের উচিত হবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসা।
সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং এর যুদ্ধজাহাজ বহর ইরানের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের এই রণতরী মোতায়েনের কড়া সমালোচনা করেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে মার্কিন রণতরীকে সমুদ্রের নিচে ডুবে থাকতে দেখা যায়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক সেই অস্ত্র, যা ওই জাহাজকে সাগরের তলানিতে পাঠিয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতামূলক বৈঠক হলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments