দেশে আবারও তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছে শিল্প খাত। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কলকারখানার উৎপাদন। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নতুন করে রফতানি আদেশ নেওয়া কমিয়ে দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে, যা স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
গ্যাস সংকটে শিল্প মালিকদের নাজেহাল অবস্থা। অনেক কারখানায় উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বিটিএমএর সহ-সভাপতি ও এন জেড টেক্স গ্রুপের কর্ণধার সালেউদ জামান খান জানান, তাঁর কারখানায় প্রতিদিন ১২০ টন সুতা ও ৪ লাখ মিটার কাপড় তৈরির জন্য ১০ পিএসআই গ্যাস চাপের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মিলছে মাত্র ৪ থেকে ৫ পিএসআই।
তিনি বলেন, ‘আমার নিজের কারখানা একদিন বন্ধ থাকলে প্রায় ৫ কোটি টাকার উৎপাদন ব্যাহত হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সরবরাহ শূন্যে নেমে আসায় টানা ১২ ঘণ্টা কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে।’ বিশেষ করে রূপগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ এলাকার শিল্পাঞ্চলগুলোতে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলায় সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। দেশে দৈনিক ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, ধাপে ধাপে চাপ বাড়ানো হচ্ছে, তবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত লাইন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘শিল্প খাতকে সচল রাখতে হলে এলএনজি টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আরও সুচারু হতে হবে। সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত সম্প্রসারণ বা বিকল্প উৎসের কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। নতুন সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন শিল্প উদ্যোক্তারা, অন্যথায় দেশের রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments