সদ্য গঠিত নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কেই বেছে নিয়েছেন। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বর্তমানে সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবস্থান করছেন। আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি যমুনা ছেড়ে দেবেন বলে আবাসন পরিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। এরপর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভবনটিতে প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বাসা ছাড়ার পর সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা হবে যাতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠতে পারেন। বিশেষ করে আসন্ন পবিত্র রমজানের ইফতার মাহফিল এবং ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রী যমুনায় আয়োজন করতে আগ্রহী।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে গুলশানে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে থাকছেন এবং সেখান থেকেই সচিবালয় ও তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও শেরেবাংলা নগর বিবেচনার তালিকায় থাকলেও সময়স্বল্পতা ও কারিগরি কারণে শেষ পর্যন্ত যমুনাকেই চূড়ান্ত করা হয়। এছাড়া ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’কে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় সেখানে আর থাকার সুযোগ নেই।
এদিকে, নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্যও সরকারি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়ার কাজ গতকাল বুধবার সম্পন্ন করেছে আবাসন পরিদপ্তর। হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোডের ‘মন্ত্রিপাড়া’ হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে এসব বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দ অনুযায়ী:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (স্থানীয় সরকারমন্ত্রী): ৩৫ হেয়ার রোড।
সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী): ২৪ বেইলি রোড।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী): ৫ হেয়ার রোড।
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (সমাজকল্যাণমন্ত্রী): ২৫ বেইলি রোড।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ (ধর্মমন্ত্রী): ৭ মিন্টো রোড।
মিজানুর রহমান মিনু (ভূমিমন্ত্রী): ২ মিন্টো রোড।
নিতাই রায় চৌধুরী (সংস্কৃতিমন্ত্রী): ৫ মিন্টো রোড।
মো. আসাদুজ্জামান (আইনমন্ত্রী): ১ হেয়ার রোড।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (পানিসম্পদমন্ত্রী): ৬ হেয়ার রোড।
আফরোজা খানম রিতা (বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী): ১ মিন্টো রোড।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্যমন্ত্রী): ৪ মিন্টো রোড।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী): ৩৪ মিন্টো রোড।
ফকির মাহবুব আনাম (ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী): ৪১ মিন্টো রোড।
ইসমাইল জবিউল্লাহ (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা): ২ হেয়ার রোড।
খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্রমন্ত্রী): মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলো (তিনি আগেও এই বাসায় ছিলেন)।
এছাড়াও মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানকে বেইলি রোডে এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থ ও পরিকল্পনা), আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান) ও শেখ রবিউল আলমকে (সড়ক পরিবহন) গুলশান ও ধানমন্ডি এলাকায় বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোডে অবস্থিত ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হয়েছে।
আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে এসব সরকারি বাসভবনে পুরোদমে থাকতে শুরু করবেন। বর্তমানে বাংলোগুলোতে প্রয়োজনীয় ধোয়া-মোছা ও সংস্কারের কাজ চলছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments