Image description

প্রতীকী ছবি | প্রতীকী ছবি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, চলতি বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরিকল্পনা তুলে ধরবে সরকার। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেশ গড়ার পরিকলল্পনার অংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল যে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাবে। 

তিনি বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর পরের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম কেবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, ৫ কোটি গাছ লাগাবে সরকার। গাছ লাগানোর পরিকল্পনায় বিএনপির রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছিল। আমরা সেই কমিটমেন্ট রক্ষা করার চেষ্টা করব।

২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ের নিজ দপ্তরে দৈনিক মানবকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপে শেখ ফরিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

এ সময় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ কোথায় ও কিভাবে লাগাবেন, গাছের ধরন কি হবে, কোন কোন গাছ অগ্রাধিকার পাবে সে বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে বন বিভাগে ১ কোটি ৪৩ লাখ চারা আছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাকি চারাগুলো মূলত সরকার নতুন করে বাইর থেকে যে বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে যে নার্সারীগুলো আছে, তাদের কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করবে। 

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিকে সামাজিক বিপ্লবে রূপান্তও করে দেশের বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। এই বছর ৫ কোটি চারা না লাগাতে পারলেও আগামী বছর এটা রিকভারি করতে পারবো আমরা। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেঘনা অববাহিকা (জিআইএস) জিও পদ্ধতিতে জায়গাগুলো চিহ্নিত করে গাছ রোপন করা হবে। যেমন লোনা পানি, উপকূল এলাকায়, মিষ্টি পানির জন্য আলাদা চারা, পাহাড়ের ও জন্য আলাদা চারা। সমতলের জন্য এক ধরণের বৃক্ষ আছে। সেইভাবে আমরা বৃক্ষ রোপন করা হবে। 

তিনি বলেন, আমাদের টার্গেট আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে গাছ লাগানো হবে। 

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী গাছ লাগানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমি খুলনা গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ডেড লাইন ঠিক করব। বর্ষার মৌসুমে বেশি গাছ লাগানো সম্ভব। এছাড়া সব সময় গাছ লাগানোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। 

উপকূল এলাকায় পানিবাহি সহিঞ্চুযুক্ত গাছ লাগানো হবে জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোলপাতা গাছ লাগানো হবে। এটি নদী ভাঙ্গন রক্ষা করবে। মাটি ক্ষয়রোধ করবে। সরকারের একটা এজেন্টা হিসেবে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছি। 

তিনি বলেন, ২০ হাজার কিলোমিটার সরকার খাল খননের কাজে হাতে নিয়েছে। আমাদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ইতোমধ্যে তার নির্বাচনী বরিশাল গৌর নদী খাল খননের কাজ আরম্ভ করেছেন। খাল খননের পর খালে দু’ধারে গাছ লাগানো হবে। ফলে গাছ লাগানোর পর তাপমাত্রা কমিয়ে ১-৩ ডিগ্রী আনা হবে। এতে বৃষ্টির পরিমাণ প্রাকৃতিক ভাবে বাড়বে। 

খাল খননের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বধীন সরকার বেকারদের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় জানিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বৃক্ষ রোপন ও রক্ষানাবেক্ষন হচ্ছে একটি বড় প্রকল্প। গাছ রোপন, পরিবহন, গাছ নষ্ট হচ্ছে কি না বা সর্বক্ষেত্রে বেকারদেরকে প্রাধান্য দেয়া হবে এই প্রকল্পে। এই প্রকল্পেও মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অপরদিকে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আনার জন্য কাজ করবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

সারাদেশে গাছ রোপন করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের খালি জায়গায়গুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন,  সড়ক, রেল, নৌ ও শিক্ষা মন্ত্রাণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এসব জায়গায় কোন ধরণের কাজ রোপন করা হচে এমন প্রশ্নে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফলজ বৃক্ষ, বনজ বৃক্ষ  ও্রষধি গাছ লাগানো হবে। এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দ্যয্য বর্ধনের গাছ লাগানো হবে, কৃষকদের জন্য আলাদা লাগানো হবে। তিনি বলেন, উপকুলের জন্য নিম গাছ লাগানো হবে। এটি এসির মতো কাজ করে। তালের চারা রোপন করা হবে, বজ পাত থেকে রক্ষা পাবে। 

গাছ লাগানোর কাজে কারা কারা সম্পৃক্ত হবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পরিবেশ কর্মী, এনজিও কর্মী ও জনসাধারণকে এই কাজে লাগানো হবে। বাংলাদেশকে বাসযোগ্য করতে হলে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন শেখ ফরিদুল ইসলাম। গাছ লাগানোর বিষয়ে বিশেযজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।