ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন—ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের এমন জোরালো দাবির মাঝেই বড় ঘোষণা দিল তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘আল-আলম টিভি’ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কিছুক্ষণের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরান সময় সন্ধ্যায় এই ভাষণ প্রচার করার কথা রয়েছে।
তবে এই ভাষণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম ধোঁয়াশা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ এবং ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে দাবি করেছে, আজকের মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনি ‘নিহত’ হয়েছেন অথবা ‘গুরুতর আহত’ হয়েছেন। খামেনির প্রেসিডেন্ট কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
চ্যানেল ১২ টেলিভিশন তাদের প্রতিবেদনে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের মতে, তেহরান খামেনির ভাষণের যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটি মূলত জনমনে বিভ্রান্তি কাটাতে আগে থেকে রেকর্ড করা কোনো ভিডিও হতে পারে। তাদের দাবি অনুযায়ী, আজকের এই সাঁড়াশি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সামরিক কমান্ডারদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েলের ‘কান স্টেট টিভি’ জানিয়েছে, হামলার পর থেকে খামেনির সঙ্গে কোনো পক্ষই যোগাযোগ করতে পারছে না এবং তার বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরেরও কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের গোয়েন্দা প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এমতাবস্থায়, খামেনির আসন্ন ভাষণটি কি ‘লাইভ’ হবে নাকি রেকর্ড করা—তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। যদি ভাষণটি লাইভ না হয়, তবে ইসরায়েলি দাবির সত্যতা আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পুরো বিশ্ব এখন তেহরানের টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে আছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments