মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবিলম্বে সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। একই সঙ্গে জোটটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে তারা সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) জিসিসির সদস্য দেশগুলোর এক জরুরি বৈঠক শেষে এই চরম বার্তা দেওয়া হয়। জিসিসিভুক্ত দেশগুলো হলো—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার এবং কুয়েত।
বৈঠকে জিসিসি অভিযোগ করে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক স্থাপনা ও আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন। বিবৃতিতে ইরানকে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে দ্রুত সংলাপ ও কূটনৈতিক পথে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মূলত পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মাঝেই গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের হতাহতের বিষয়ে বিশ্বজুড়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিকভাবে এখনো তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সার্বিকভাবে এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments