অপহরণের নাটক সাজিয়ে এক ব্যবসায়ীর প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা লুট করার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ঢাকার সিএমএম কোর্টে মামলাও হয়েছে।
ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এসি তারেক সেকেন্দার (বর্তমানে এডিসি রাঙ্গামাটি) এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের পুলিশ একটি টিমের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তিভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন।
সোমবার (২ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন বলেন, আমি চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও বিভিন্ন বাজার থেকে সরাসরি ইমপোর্টারের নিকট হতে কসমেটিক আইটেম, থান কাপড় ক্রয় করে ঢাকার ইসলামপুর এবং চকবাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট সরবরাহ করে থাকি। গত বছরের ৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার ওয়ারীর বাসায় মহানগর ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের এসি তারেক সেকেন্দার (বর্তমানে এডিসি রাঙ্গামাটি) এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের পুলিশ একটি টিম আমার বাসায় ‘১৩ বছরের একটি মেয়েকে অপহরণ করে রাখা হয়েছে এই কথা বলে জোরপূর্বক বাসায় ঢুকে বাসা তল্লাশি করে’।
তিনি বলেন, বাসা তল্লাশির নামে আলমারিতে রাখা ৪ দিনের মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা ৭/৮টি ব্যাগ ভর্তি করে ডাকাতি করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তারা ৬ লাখ টাকার জাল নোট ঢুকিয়ে আমার ২ জন কর্মচারীকে ধরে নিয়ে আসে ওয়ারী থানায় মিথ্যা মামলা দেয়। সেই সঙ্গে আমার ব্যবসার সকল কাগজপত্র ও নথিপত্র ডাকাতরা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। আমি ঘটনার সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মালেয়শিয়ায় অবস্থান করছিলাম। দেশে ফিরে আমি টাকা উদ্ধারের জন্য ঢাকা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট যোগাযোগ করে টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমি ঢাকা সিএমএম কোর্টে ডিবির এসি তারেক সেকেন্দার, ১১ পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছি। ডাকাতদের মধ্যে ১ জনের জাল টাকার মামলায় রাজসাক্ষী হিসাবে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবান বন্দি রয়েছে, পরবর্তীতে তাকে আমার মামলায় সাক্ষী করা হয়। বিজ্ঞ আদালত মামলার সকল কাগজপত্র, নথিপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি গ্রহণ করে এবং পুলিশ সুপার পদমর্যদার কোন কর্মকর্তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ডিআইজি পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন বলেন, আমি বংশ পরম্পরায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার মূলধন হারিয়ে আমি আজ দিশেহারা। আমি ন্যায় বিচার ও টাকা উদ্ধারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।




Comments