Image description

সহশিল্পীকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নতুন নাটকের শুটিং সেটে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, মানিকগঞ্জে এই নির্মাতার নতুন নাটকের শুটিং চলাকালে অভিনেত্রী সামিয়া অথৈকে সজোরে চড় ও খামচি দিয়ে রক্তাক্ত করার এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটে।  মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে এক ফেসবুক লাইভে এসে সামিয়া অথৈ এমনটা জানিয়েছেন।

এই নাটকটিতে তানজিন তিশা, সামিয়া অথৈ ছাড়াও আরও অভিনয় করছেন শহিদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা এবং মীর রাব্বী।

জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত একটি উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে। তিশার নতুন সিনেমার খবরে আনন্দিত হয়ে ঢাকা থেকে একটি উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন সামিয়া অথৈ। কিন্তু তিশা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করে সেই উপহার নিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে অথৈ বিব্রত হয়ে চুপ হয়ে যান।

কিন্তু মূল ঘটনা ঘটে গত ২ মার্চ, অথৈয়ের প্রথম দৃশ্যের শুটিংয়ের সময়। অভিযোগ অনুযায়ী, দৃশ্য ধারণ চলাকালে তানজিন তিশা স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অথৈকে খামচি দেন, এতে তার হাত ছুলে রক্ত বের হয়। ঘটনাটি সবার সামনেই ঘটে। 

অথৈ দাবি করেছেন, অপমানজনক ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি সত্ত্বেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ করেননি।

শুটিং মনিটরে বসে পুরো দৃশ্যটি দেখছিলেন শহিদুজ্জামান সেলিম ও পরিচালক রিংকু। অপ্রত্যাশিত ঘটনায় সেলিম বিস্ময় প্রকাশ করে অথৈয়ের কাছে জানতে চান, আগে থেকে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কিনা। তখনই অথৈ প্রবীণ এই অভিনেতার কাছে তিশার অতীত একটি হুমকির কথা ফাঁস করেন।

অথৈ জানান, এর আগে অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করার সময় তানজিন তিশা তাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন। শুধু তাকেই নয়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলসহ আরও অনেককেই ফোন করে ফারহানের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করেন তিশা।

সে সময় তিশার কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ফারহান তার ‘জামাই’। ঘটনার পর অথৈ বিষয়টি ফারহানকে জানান এবং পরে তার সঙ্গে আর কাজ করেননি।

পুরোনো সেই ক্ষোভ থেকেই দৃশ্য ধারণের সুযোগ নিয়ে তিশা এই শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ সামিয়া অথৈয়ের।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘তিশার আত্মহত্যার চেষ্টা’ শিরোনামে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। ওই সময় গুঞ্জন উঠে, অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জটিলতা থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অভিনেত্রী। সেই সময়টায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাকে। যদিও পরে এ কথা অস্বীকার করেন তিনি।