মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর বৃহত্তম শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (IAI)-এর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
সৌদি আরবে হামলা: বুধবার (৪ মার্চ) সকালে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় অবস্থিত আরামকোর বৃহত্তম তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন আঘাত হানে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ড্রোনটি সরাসরি স্থাপনাটিতে আঘাত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত সোমবারও রাস তানুরার একই শোধনাগার লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন ছুড়েছিল ইরান। সে সময় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায় এবং কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার আবারও সেখানে হামলার ঘটনা ঘটল।
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলা: একই দিনে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনের কেন্দ্রে অবস্থিত ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (IAI)-এর সদরদপ্তর এবং একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী সামরিক ঘাঁটিতে তারা সফলভাবে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বুধবার রাত ২টার দিকে এই হামলা চালানো হয়। আইএআই ইসরায়েলের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, যা যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন এবং স্যাটেলাইট তৈরি করে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন শহর ও জনপদে ইসরায়েলি অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাবেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের প্রধান উৎস সৌদি আরামকো এবং ইসরায়েলের সামরিক সদরদপ্তর লক্ষ্য করে এসব হামলা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments