রমজানের রোজা রাখা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ। শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া রোজা ভাঙা বা ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। তবে অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা কাজা হলে তা পরবর্তীতে আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি কাজা রোজা আদায় করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ রোজা রাখতে পারবেন কি না—এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে (রমজানে) উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ বা মুসাফির হয়, সে অন্য দিনে সংখ্যা পূরণ করে নেবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
ইচ্ছাকৃত রোজা ত্যাগের পরিণাম: অসুস্থতা বা সঙ্গত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙা উচিত নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শরিয়তসম্মত কারণ বা অসুস্থতা ছাড়া রমজানের একটি রোজা ভাঙে, তার ওই রোজার বিপরীতে সারা জীবনের রোজাও রমজানের একটি রোজার সমমর্যাদা ও স্থলাভিষিক্ত হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৭২৩)
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখা যাবে কি? ইসলামি ফেকাহবিদদের মতে, একজনের অনাদায়ী বা কাজা রোজা অন্য কেউ রাখতে পারবে না। জীবিত কেউ যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজা রাখেন, তবে তা ওই মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় হবে না।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-কে যখন অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখা কিংবা নামাজ আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলতেন, ‘কেউ অন্যের পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না এবং অন্যের পক্ষ থেকে নামাজ পড়বে না।’ (মুআত্তা ইমাম মালেক: ৯৪)
বিকল্প সমাধান হিসেবে ‘ফিদইয়া’: মৃত ব্যক্তির কাজা রোজার দায়মুক্তির জন্য শরিয়তে ‘ফিদইয়া’ আদায়ের বিধান রয়েছে। মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে বা তাঁর উত্তরাধিকারীরা স্বেচ্ছায় তাঁর প্রতিটি রোজার বিনিময়ে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দু’বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়াবেন অথবা তার সমপরিমাণ মূল্য দান করবেন। ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২০৭) অনুযায়ী, এটিই মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাজা রোজার ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments