Image description

নেপালে সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনায় বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এই দলটিই নেপালের পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএসপির অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ (যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত)। জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও তিনি শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানে জোরালো সমর্থন জানিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ তাকেই ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। বালেন্দ্র বর্তমানে ঝাপা-৫ আসনে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী (ইউএমএল প্রধান) কেপি শর্মা ওলির চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে, আরএসপির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রিয় সাবেক টেলিভিশন সাংবাদিক রবি লামিছানে। লাইভ শোতে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলে তিনি আগে থেকেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন।

নির্বাচনের প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, ১৬৫টি প্রত্যক্ষ আসনের মধ্যে আরএসপি একাই ৯০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, পুরনো রাজনৈতিক দলগুলো এবার তেমন সুবিধা করতে পারেনি। গগন থাপার নেতৃত্বাধীন নেপালি কংগ্রেস ৯টি, কেপি শর্মা ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল ৮টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল মাত্র ৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যান্য দলগুলো পেয়েছে মাত্র ২টি আসন।

উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫ সালের) সেপ্টেম্বরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে। এরপর সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কীর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। তাদের অধীনেই গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ৬৫টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নেপালের এই জেন-জি অভ্যুত্থানের সঙ্গে অনেকেই ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মিল খুঁজে পান। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তরুণদের দল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) আশানুরূপ ফল করতে পারেনি, দেশের মানুষ পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরই বেশি আস্থা রেখেছিল। কিন্তু নেপালের চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত—সেখানে জনগণ পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন দল ও তরুণ নেতৃত্বের ওপরই পূর্ণ আস্থা রেখেছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই