Image description

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি(এফবিআই)-এর কিছু সাক্ষাৎকার নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে এক অজ্ঞাতনামা নারী অভিযোগ করেছেন যে, কিশোর বয়সে তাকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট। বহুল আলোচিত যৌন পাচার মামলার আসামিকে ঘিরে তদন্তের অংশ হিসেবে নেওয়া সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপে এই অভিযোগ উঠে এসেছে। খবর দিয়েছে রয়টার্স।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এফবিআই ওই নারীর সঙ্গে চারবার সাক্ষাৎকার নেয়। এর আগে বিচার বিভাগ সাক্ষাৎকার নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও চারটির মধ্যে মাত্র একটি সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকারে ওই নারী দাবি করেছিলেন, কিশোরী বয়সে এপস্টেইন তার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন।

নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সিতে এপস্টেইন ওই নারীর সঙ্গে ট্রাম্পের পরিচয় করিয়ে দেন। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ১৩ থেকে ১৫ বছর। ওই নারী অভিযোগ করেন, এক পর্যায়ে ট্রাম্প তাকে জোর করে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম  পলিটিকো প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন এবং বলেন, এর কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।

অন্যদিকে বিচার বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, কিছু নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা উসকানিমূলক দাবি থাকতে পারে। রয়টার্স জানায়, তারা স্বাধীনভাবে ওই নারীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর সংস্থাটি ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়।

বিচার বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, সম্প্রতি প্রকাশিত নথিগুলো আগে ভুলবশত ‘প্রতিলিপি’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, যার কারণে সেগুলো আগে প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে এপস্টেইন তদন্তের নথি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসে চাপ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প-সম্পর্কিত কিছু নথি গোপন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করতে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে সমন পাঠিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই