Image description

পবিত্র রমজান মাস হলো ইবাদত করার প্রতিযোগিতার মাস। আর রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবাদতে অনেক বেশি মনোযোগ দিতেন। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে সকল গুনাহ থেকে নাজাত পেতে শেষ দশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত করা দরকার। রাসুলুল্লাহ (সা.)কে অনুকরণ করে রমজানের শেষ দশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত তুলে ধরা হলো:

ইবাদতে অধিক পরিশ্রম করা:
রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবাদতে অনেক বেশি মনোযোগ দিতেন। হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা.) বলেন, “রমজানের শেষ দশক এলে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাত জেগে ইবাদত করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং ইবাদতের জন্য কোমর শক্ত করে নিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৭৪)

সারা রাত ইবাদতে কাটানো:
শেষ দশকে তিনি রাতের একটি বড় অংশ ইবাদতে কাটাতেন। এতে ছিল নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং দোয়া। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি রাত জেগে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং এই সময়কে বিশেষভাবে মূল্য দিতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৭৪)
 
পরিবারকে ইবাদতের জন্য জাগানো: 
রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নিজে ইবাদত করতেন না, বরং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। এতে বোঝা যায় যে, পরিবারের সবাইকে ইবাদতের পরিবেশে রাখা তার সুন্নাহ ছিল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৪)
 
এতেকাফ করা: 
রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন, যতদিন না আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৭২) এতেকাফের মাধ্যমে তিনি মসজিদে অবস্থান করে একাগ্রতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতেন। 
 
লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান করা: 
রমজানের শেষ দশকে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। পবিত্র কুরআন এ বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কী জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা কদর: ১–৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে এই রাতের অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০১৭) রমজানের শেষ দশক ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে বিশেষ গুরুত্বের সময়। 
 
তিনি এই সময়টিতে বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও এতেকাফের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য উৎসাহিত করতেন। তাই একজন মুসলমানের উচিত এই সুন্নাহ অনুসরণ করে রমজানের শেষ দশককে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানো এবং লাইলাতুল কদরের সন্ধান করা।