কক্সবাজারের রামুতে দেড় হাজার (১ হাজার ৫০০ জন) দরিদ্র রোজাদারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করলেন বৌদ্ধ ভিক্ষু। গত ১২ বছর ধরে বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রীমৎ কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল ৩টায় উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের জ্যোতিসেন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
রামুর ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের পরিচালক এবং বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার যুগ্ম মহাসচিব শ্রীমৎ কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথেরের সৌজন্যে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাজারকুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রতিবছরের মতো এবারও রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের পক্ষ থেকে অসহায় রোজাদারদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
ইফতার সামগ্রী পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুসলিম রোজাদাররা। রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান খাতুন (৭০) বলেন, ‘প্রতিবছর ভান্তের পক্ষ থেকে আমাদের ইফতার দেওয়া হয়। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়।’
নাপিতার কাটা এলাকার গোল মেহের বলেন, ‘প্রতিবছর ভান্তে আমাদের ইফতার দেন এবং নানা সময় সহযোগিতা করেন। আমরা এতে খুব আনন্দিত।’
বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার যুগ্ম মহাসচিব ও ঐতিহাসিক রাংকুট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহারের পরিচালক শ্রীমৎ কে শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে ধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। বিহারের চারপাশে অসংখ্য মুসলিম পরিবার আমাদের প্রতিবেশী।
তিনি বলেন, মূলত নিম্ন আয়ের মুসলিম প্রতিবেশীদের কথা চিন্তা করে প্রতিবছর আমরা এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে থাকি। এ বছরও ১২তম বারের মতো ১৫০০ রোজাদারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




Comments