Image description

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, ঈদযাত্রায় মহাসড়কের জ্বালানি পাম্পগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে এবং গণপরিবহনের ওপর থেকে জ্বালানি তেলের বিদ্যমান রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

সেতুমন্ত্রী বলেন, "ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কের সব জ্বালানি পাম্প ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পরে পাঁচ দিন—অর্থাৎ মোট ১২ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস ও গণপরিবহনের ক্ষেত্রে গত ৬ মার্চ থেকে জারি করা জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা আজ (শনিবার) রাত থেকেই তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে আজ রাত থেকে গণপরিবহনগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবে।"

তবে ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহের আগের সীমা (রেশনিং) আপাতত বহাল থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সড়কপথে যানজট পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য যানজট এড়াতে সারা দেশের মহাসড়কগুলোতে ২০৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা যেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, "ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।"

উল্লেখ্য, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে গত ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি সরবরাহে রেশনিং পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এর ফলে মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল পাওয়ার নিয়ম কার্যকর ছিল। আজ গণপরিবহনের জন্য সেই সীমা তুলে নেওয়ায় ঈদযাত্রা আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর