মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা ছাড়িয়ে এবার সরাসরি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের হৃদপিণ্ডে আঘাত হেনেছে ইরান। রোববার (১৫ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আজ ১৬তম দিনে আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজধানী রিয়াদ মহানগর এলাকায় অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনগুলোকে আকাশেই নির্মূল করতে সক্ষম হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে সৌদি আরব ক্রমাগত ইরানি হামলার শিকার হচ্ছে। হামলাগুলোতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই পর্যন্ত সৌদিতে ২ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, ১০টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুল সংখ্যক ড্রোন দিয়ে এই ঘাঁটিটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরানি হামলার প্রভাবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও বিপর্যয় নেমে এসেছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০৮ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। বর্তমানে ৮১ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এবং অনেকে সাইরেন শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় হুড়োহুড়িতে আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যেভাবে তার হামলার পরিধি বাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, তাতে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেলআবিব এই হামলার জবাব কীভাবে দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments