Image description

শেষ হলো অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৭ দিনের এই মিলনমেলার পর্দা নামল আজ রোববার (১৫ মার্চ)। মেলা পরিচালনা কমিটির দেওয়া তথ্যমতে, এবারের সংক্ষিপ্ত মেলায় সর্বমোট ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে।

আজ বিকেলে বইমেলার মূল মঞ্চে আয়োজিত এক সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার প্রতিবেদন পাঠ করেন পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেলায় অংশ নেওয়া ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গড় হিসাবে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি টাকা। মেলা চলাকালীন ১৭ দিনে বাংলা একাডেমি একাই ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে। তবে গত বছরের তুলনায় বিক্রির অংক এবার অনেক কম। ২০২৪ সালে ৬০ কোটি এবং ২০২৩ সালে ৪৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হলেও মেলায় দিন সংখ্যা কম হওয়ায় এবার বিক্রির পরিমাণ কমেছে।

তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, মেলায় এবার নতুন বই জমা পড়েছে ১ হাজার ৭৭১টি এবং নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে ২৫২টির। তবে সব প্রকাশক বই জমা না দেওয়ায় নতুন বইয়ের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের মেলার বিশেষ দিক ছিল স্টল ভাড়া মওকুফ। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যে অর্থ জমা দিয়েছিলেন, তাদের তা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম মেলার সার্বিক আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রকাশনা সংস্থাসমূহকে ‘গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

মেলা সংক্ষিপ্ত হলেও ‘শিশুপ্রহর’ ছিল শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পাপেট শো ও বায়োস্কোপের রঙিন আয়োজনে মুখর ছিল শিশু চত্বর। আবৃত্তি, সংগীত ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করেছিলেন। নির্বাচন ও রমজানের কারণে মেলা কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ১৭ দিনের এই আয়োজন শেষে সদস্য-সচিব সেলিম রেজা বলেন, ‘বইমেলা নিছক কেনাবেচার হাট নয়, এটি আমাদের চেতনার অংশ—এক বিশাল মিলনমেলা।’

মানবকণ্ঠ/আরআই