Image description

মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেটে’ পাকিস্তানকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের পর ঘরের মাঠে আবারও পকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর রোমাঞ্চকর এক মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশবাসী। তবে টাইগারদের এই উৎসবের রাতে আনন্দের পাশাপাশি যোগ হয়েছে নতুন এক বিতর্ক। ম্যাচের শেষ ওভারের একটি ডিআরএস (DRS) সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট।

রোববার (১৫ মার্চ) সিরিজের অঘোষিত ফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাট করে তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ২৯০ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে সালমান আলী আঘার লড়াকু সেঞ্চুরি সত্ত্বেও পাকিস্তান ১১ রানে হেরে যায়। ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২ বলে ১২ রান। বোলার রিশাদ হোসেনের একটি বল লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে গেলে আম্পায়ার সেটিকে ‘ওয়াইড’ ঘোষণা করেন।

ঠিক এই মুহূর্তেই শুরু হয় বিতর্ক। বাংলাদেশ দল এলবিডব্লিউর (LBW) জন্য রিভিউ আবেদন করে। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি ব্যাটের কোণায় লেগেছে। ফলে এলবিডব্লিউ না হলেও ব্যাটে লাগার কারণে আম্পায়ারের দেওয়া ‘ওয়াইড’ সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যায়। এতে সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ১২ রান, যা কার্যত অসম্ভব। শেষ বলে শাহিন আফ্রিদি আউট হলে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুলের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। তাদের প্রধান দুটি অভিযোগ হলো:
১. জায়ান্ট স্ক্রিনের প্রভাব: পাকিস্তানের দাবি, মাঠের বড় পর্দায় রিপ্লে দেখে ধারণা নেওয়ার পর বাংলাদেশ রিভিউয়ের আবেদন করেছে, যা আইসিসির নিয়মের পরিপন্থি।
২. সময়সীমা লঙ্ঘন: ডিআরএস নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ১৫ সেকেন্ড সময় পার হওয়ার পর আম্পায়ার বাংলাদেশকে রিভিউ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পিসিবির। সম্প্রচারে কোনো টাইমার না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

পিসিবি মনে করছে, ওয়াইডটি যদি বহাল থাকত তবে পাকিস্তানের সামনে জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনা টিকে থাকত। যদিও ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের ফল পরিবর্তনের সুযোগ নেই, তবে পাকিস্তান চায় আম্পায়ারিংয়ের এই ভুলটি অফিশিয়াল রেকর্ডে আসুক।

টাইগারদের এই গৌরবোজ্জ্বল সিরিজ জয়ের দিনে এমন বিতর্ক মিরপুরের দর্শকদের কিছুটা অবাক করলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ যে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার বিষয়, ম্যাচ রেফারির তদন্তে পাকিস্তানের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত আসে।

মানবকণ্ঠ/আরআই