Image description

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘লটারি পদ্ধতি’ বাদ দিয়ে আবারও পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে এক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও সংস্কার নিয়ে আয়োজিত এই সভায় মাহদী আমিন সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকার কেবল ভর্তি পদ্ধতি নয়, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, "সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে শিক্ষা কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

সরকারের কাজের গতির প্রশংসা করে মাহদী আমিন বলেন, "অতীতে কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে এতটা সক্রিয় হতে পারেনি। বর্তমান সরকার মাত্র ২৮ কর্মদিবসের মধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ ও ‘খাল খনন’ কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শুরু করে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা খাতেও ইশতেহার অনুযায়ী দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।"

লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, সরকার চায় ভর্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে। লটারি নিয়ে জনমনে থাকা নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করেই সরকার পুনরায় পরীক্ষার দিকে যাওয়ার কথা ভাবছে।

আলোচনা সভায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অনেকেই বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা ফিরলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং পড়াশোনার গুণগত মান বাড়বে।

মানবকণ্ঠ/আরআই