Image description

পর্দা নামল একুশে বইমেলার। এবারের বইমেলা আয়োজন করা হয় অনেকটা নিয়ম রক্ষার তাগিদ থেকে। প্রকাশকদের একটি বড় অংশ রমজানে মেলায় অংশ নিতে চাননি। চেয়েছিল ঈদের পরে বইমেলা হোক। কারণ, তাঁদের আশঙ্কা ছিল রোজার মধ্যে মেলায় লোকসমাগম কম হবে। 

এবারের মেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি টাকা। আর বাংলা একাডেমির মোট ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) মেলা প্রাঙ্গণে সমাপনী অনুষ্ঠানে এক প্রতিবেদনে এসব জানান ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর সদস্য-সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছিল ৫৭০টি, মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ১৪টি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ চাই, যেখানে বৈচিত্র্যের মাঝেও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য বইয়ের বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের সন্তানদের আবার বইয়ের জগতে নিয়ে যেতে হবে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় পাঠাগার ও জ্ঞান প্রসারের উদ্যোগ নিতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘যে বই পাঠককে মনের ভেতর থেকে জাগিয়ে তোলে, ন্যায়-অন্যায় বোধ জাগ্রত করে সেটিই মানসম্পন্ন বই। রাষ্ট্র গঠনে ও উন্নত চিন্তা-চেতনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যে বই ভূমিকা রাখে সেটিই মানসম্পন্ন বই। একটি জাতির কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ পাঠাভ্যাস দ্বারা নির্ণীত হয়।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় এবারের বইমেলা সফল করা সম্ভব হয়েছে। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের সামষ্টিক উদযাপনে আগামীর বইমেলা নতুনরূপে প্রত্যাশা জাগাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।