ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বেড়েছে ঘরমুখী মানুষের ঢল। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়ছেন তারা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা ছুটি শুরু হচ্ছে। ফলে ঘরে ফিরতে রাজধানী ছাড়ার ঢেউ আজ থেকে অনেকটাই বেড়ে গেছে। গতকাল সোমবার অফিস সময় শেষে বিকেল থেকেই ট্রেন ও বিভিন্ন বাসস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখী যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়।
রাজধানীর প্রধান রেলস্টেশন কমলাপুরে গতকাল সকালে তেমন ভিড় ছিল না। বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোয় যাত্রীদের ব্যাপক চাপ লক্ষ করা যায়। নির্ধারিত আসনে বসার পাশাপাশি অনেক যাত্রীকে দরজার কাছেসহ বগিজুড়ে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে দেখা গেছে। কিছু ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যাত্রীদের ছাদেও উঠতে দেখা গেছে।
রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন কয়েক লাখ যাত্রী ট্রেনে করে ঢাকা ছাড়ছে। এ জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদার করেছে।
গতকাল কমলাপুর স্টেশন থেকে ৪৪ জোড়া আন্তনগর ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে নীলসাগর ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেন আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বিশেষ ট্রেনও। ট্রেনে আজ মঙ্গল ও কাল বুধবার ঘরমুখী মানুষের ভিড় আরও বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম।
সড়কপথেও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিকেল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বাসে উঠতে দেখা গেছে। উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রামমুখী বাসগুলো প্রায় পূর্ণ যাত্রী নিয়েই ছাড়ছে। অনেক যাত্রী আগেভাগে টিকিট কেটে রাখলেও কিছু যাত্রীকে কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহের জন্য ভিড় করতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বিকেল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। ফলে বিভিন্ন স্থানে যান চলাচলের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাভার-নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক, চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় গাড়ির চাপ বেশি থাকায় সেখানে যানবাহন ধীরে চলতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারাপারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যানবাহনকে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার মুখগুলোতেও তীব্র যানজট দেখা গেছে। গতকাল বিকেল থেকে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি ছিল।
গতকাল মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বলেছেন, গত সাত দিনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো নজির নেই; বরং কোথাও কোথাও ২০-৫০ টাকা কমে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদারকি জোরদার করেছে।
জ্বালানি সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো পরিবহনমালিক তেল না পাওয়ার অভিযোগ করলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল বিকেল থেকেই বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিগামী যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেক যাত্রী লঞ্চ ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ঘাটে এসে অবস্থান করছিলেন। লঞ্চমালিক ও ঘাটসংশ্লিষ্টরা এ সময় বলেন, রাতের লঞ্চগুলোয় যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে।




Comments