Image description

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত এক মাসের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের জেরে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার (১৮ মার্চ) বড় দরপতন হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্পট গোল্ডের দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০৩ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ড ফিউচারও ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯০৭ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে। শুধু স্বর্ণই নয়, রুপা (১.২ শতাংশ), প্লাটিনাম (২.৯ শতাংশ) এবং প্যালাডিয়ামের (২.৬ শতাংশ) দামও বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার এখনই কমাচ্ছে না। উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ বাদ দিয়ে ব্যাংক আমানত বা বন্ডের মতো সুদ প্রদানকারী খাতের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিরতাও বাজারের এই অনিশ্চয়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

সংঘাত এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তেলের দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। তেলের এই আকাশচুম্বী দাম মূলত পরিবহন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি উসকে দিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের বাজারে।

বিশ্ববাজারে দাম কমার ফলে বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির একটি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের এই বড় পতনের প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়বে। সেক্ষেত্রে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের ক্রেতাদের জন্য সুখবর আসতে পারে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে টানা তিন দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস এবং তিনবারই দাম কমানো হয়েছে। মোট কমানো হয়েছে ৮ হাজার ১৬৫ টাকা। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। নতুন সমন্বয় হলে এই দাম আরও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই