Image description

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দর নগরী হাইফায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতের এই হামলার পর শোধনাগারটিতে বিশাল অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, হামলার ফলে হাইফায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুক্ষণের জন্য বিঘ্নিত হয়েছিল। তবে দ্রুততম সময়ে বেশিরভাগ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্যুৎ গ্রিডের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং অবকাঠামো নিরাপদ রয়েছে।

এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এক বিবৃতিতে জানায়, হাইফা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আশদোদ শহরের তেল শোধনাগারগুলো তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল। তাদের দাবি, জায়নবাদী শাসনের বেশ কিছু নিরাপত্তা স্থাপনা এবং সামরিক সহায়তা কেন্দ্রে ‘সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের’ আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আশদোদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ইরানের এই সামরিক তৎপরতা কেবল ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই। কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় হামলার ফলে দেশটির প্রায় ১৭ শতাংশ গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া সৌদি আরবের ইয়ানবু অঞ্চল এবং কুয়েতে ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানির স্থাপনাগুলোতেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের হামলার পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র, কাস্পিয়ান সাগরের নৌঘাঁটি এবং বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, এসব হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এখনও বড় অংশেই অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

এদিকে লেবাননেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের কাবরিখা, মারজায়ুন এবং বিংত জবেইল এলাকায় বিমান হামলায় বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ধ্বংস হয়ে গেছে। চলমান এই সংঘাতের ফলে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক হামলায় একজন রুশ সাংবাদিক ও তার ক্যামেরাম্যান আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল রাগের বশে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে আর হামলা হবে না বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর