Image description

পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান আমল ও আনন্দের সূচনা হয় দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে। তবে অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জামাতে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে রাকাত বা অতিরিক্ত তাকবির ছুটে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে শরিয়তসম্মত উপায়ে নামাজ পূর্ণ করার নিয়মগুলো জেনে রাখা জরুরি।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদের নামাজে রাকাত ছুটে গেলে যেভাবে তা পূর্ণ করবেন:

১. প্রথম রাকাতের কেরাত অবস্থায় শরিক হলে
কেউ যদি বিলম্বে এসে ইমামকে প্রথম রাকাতের কেরাত পাঠ করা অবস্থায় পান, তবে তিনি প্রথমে ‘তাকবিরে তাহরিমা’ বলে হাত বাঁধবেন এবং অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলে ইমামের অনুসরণ করবেন।

২. প্রথম রাকাতের রুকুতে শরিক হলে
যদি কেউ এসে দেখেন ইমাম রুকুতে চলে গেছেন, তবে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে ইমামকে রুকুতে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাই করবেন। কিন্তু দাঁড়িয়ে তাকবির বললে ইমামকে রুকুতে না পাওয়ার আশঙ্কা থাকলে, শুধু তাকবিরে তাহরিমা বলে রুকুতে চলে যাবেন। এরপর রুকুতে থাকা অবস্থায় হাত না উঠিয়ে মনে মনে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবেন। এরপর সময় থাকলে রুকুর তাসবিহ পড়বেন।

৩. দ্বিতীয় রাকাতে শরিক হলে
কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতে এসে ইমামের সঙ্গে জামাতে শরিক হন, তবে তিনি ইমামের সঙ্গে নামাজ শেষ করবেন। ইমাম সালাম ফেরানোর পর ওই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে নিজের ছুটে যাওয়া প্রথম রাকাতটি আদায় করবেন। এক্ষেত্রে প্রথমে সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা পড়বেন এবং রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলে রাকাত সম্পন্ন করবেন।

৪. শেষ বৈঠকে (তাশাহুদে) শরিক হলে
যদি কেউ দ্বিতীয় রাকাতের রুকু বা তাশাহুদের সময় জামাতে শরিক হন, তবে ইমামের সালাম ফেরানোর পর তিনি দাঁড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে নামাজ আদায় করবেন। এক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে প্রথমে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে সুরা-কেরাত পাঠ করে রুকু-সিজদা করবেন। এভাবে প্রথম রাকাত পূর্ণ হবে। এরপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে সুরা-কেরাত পড়বেন এবং রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো বলে নামাজ শেষ করবেন।

উল্লেখ্য, ঈদের নামাজের রাকাত বা তাকবির ছুটে যাওয়ার সঙ্গে পুরো রমজান মাসের ইবাদত কবুল হওয়া বা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় মাত্র। আল্লাহ তাআলা সকল রোজাদার ও মুসল্লির ইবাদত কবুল করে রহমত ও নাজাতের সৌরভে সিক্ত করুন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর