Image description

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক উদ্বেগের মাঝেই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি পাল্টা কঠোর বার্তা দিয়ে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘যখন আপনি প্রতিপক্ষকে কার্যত ধ্বংস করে দিচ্ছেন, তখন যুদ্ধবিরতি করার কোনো প্রয়োজন নেই।’ ট্রাম্পের এমন অনমনীয় অবস্থান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। একই সভায় তিনি ন্যাটো জোটের তীব্র সমালোচনা করে তাদের ‘ভীতু’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই সামরিক জোটকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। পারস্যের নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরান তার শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো’ মোক্ষম আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘ভয়াবহ ভুল হিসাব’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো চাপেই ইরান তার প্রতিরোধ যুদ্ধ থেকে পিছু হটবে না। এদিকে ইরানের সামরিক কর্মকর্তা আলি আবদোল্লাহি দাবি করেছেন, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের জন্য ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে।

এই যুদ্ধের প্রভাব এখন বৈশ্বিক কূটনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান অবতরণের অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে শ্রীলঙ্কা। একই সময়ে সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিরই বহিঃপ্রকাশ।

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ইরানের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ নওরোজ চলাকালেও মধ্যপ্রাচ্যে হামলা থামেনি। ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত এখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যা যেকোনো সময় আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর