Image description

পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই আনন্দঘন দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ‘ঈদ মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে এই শুভেচ্ছার শাব্দিক অর্থ এবং ইসলামের দৃষ্টিতে এর সঠিক নিয়ম ও সুন্নাহ পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই।

আরবি ‘ঈদ’ শব্দের অর্থ হলো আনন্দ, খুশি বা উদযাপন। আর ‘মোবারক’ শব্দের অর্থ কল্যাণময় ও বরকতপূর্ণ। সুতরাং ‘ঈদ মোবারক’ এর পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায়— আপনার ঈদ কল্যাণময় হোক কিংবা এই আনন্দ উদযাপন আপনার জন্য বরকতময় হোক।

আমাদের দেশে ‘ঈদ মোবারক’ বলার প্রচলনটি বেশ সুন্দর ও অর্থবহ। তবে ইসলামি স্কলারদের মতে, শুভেচ্ছার আগে সালাম দেওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ, আগে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে সালামের গুরুত্বপূর্ণ আমলটি অনেক সময় বাদ পড়ে যায়। তাই প্রথমে সালাম দিয়ে এরপর শুভেচ্ছা বিনিময় করা অধিকতর উত্তম।

ঈদের দিনে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নাহ। তবে হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সর্বোত্তম একটি দোয়া পাওয়া যায়। সেটি হলো— ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (تقبل الله منا ومنكم)। এর অর্থ হলো— ‘আল্লাহ আমাদের ও আপনার পক্ষ থেকে (নেক আমলগুলো) কবুল করুন’।

ওয়াসিলা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন— “আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ঈদের দিন সাক্ষাৎ করলাম। আমি বললাম, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’। নবীজি (সা.) উত্তরে বললেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’।” (বায়হাকি, হাদিস: ৩/৪৪৬)।

অন্য এক বর্ণনায় জুবাইর ইবনু নুফাইর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন পরস্পর সাক্ষাৎ হলে বলতেন ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়ামিন কুম’। (ফাতহুল কাদির)।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘ঈদ মোবারক’ বলা নাজায়েজ নয়, তবে সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণ করে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলা অনেক বেশি সওয়াব ও বরকতের কাজ। এটি একই সঙ্গে শুভেচ্ছা এবং একটি সুন্দর দোয়া।

মানবকণ্ঠ/ডিআর