যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর সাবেক পরিচালক এবং ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া আলোচিত বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
সিবিএস নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে তিনি মারা যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
রবার্ট মুলারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “রবার্ট মুলার কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন। ভালো হয়েছে, তার মৃত্যুতে আমি খুশি। উনি আর নির্দোষ মানুষদের ক্ষতি করতে পারবেন না!”
উল্লেখ্য, বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে মুলারের তদন্ত ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শাসনামলে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই ট্রাম্প এমন কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রবার্ট মুলার ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা ১২ বছর এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নেন। তাকে আধুনিক সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা হিসেবে এফবিআইকে পুনর্গঠনের প্রধান কারিগর বলা হয়। তিনি দক্ষ হাতে সংস্থাটিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনে নতুন রূপ দিয়েছিলেন।
রবার্ট মুলারকে এফবিআই প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বুশ বলেন, “বব (রবার্ট মুলার) অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংস্থাটি পরিচালনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আরেকটি সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রেখেছেন।”
অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে “এফবিআইয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা পরিচালক” হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওবামা বলেন, “আইনের শাসনের প্রতি তার অবিচল প্রতিশ্রুতি ও মৌলিক মূল্যবোধে অটল বিশ্বাস চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করা মুলার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে মার্কিন মেরিন কোরে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী অ্যান ক্যাবেল স্ট্যান্ডিশের সঙ্গে প্রায় ৬০ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।
২০১৭ সালে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর রবার্ট মুলার ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments