Image description

কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে সারা দেশের মহাসড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেলক্রসিংগুলোতে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্যমন্ত্রী আমিনুর রশীদ। একই সঙ্গে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হতাহতদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কুমিল্লার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শন শেষে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আহতদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হলে ঢাকা কিংবা বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নিহত প্রত্যেক পরিবারের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার খরচ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।"

এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে ‘মামুন পরিবহন’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় ঢাকা অভিমুখী একটি মেইল ট্রেন। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ১২ জন যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায়। বাসের অধিকাংশ যাত্রীই গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর দিকে যাচ্ছিলেন।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, রেলক্রসিংয়ে অসতর্কতার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নিয়ে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর