Image description

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি বন্ধুপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্রমতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির এই বিশেষ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই রাজি হয়, তবে তারা সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন। তবে তেহরান সরাসরি ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে বার্তা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি সংচনায় বসেনি।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট এবং ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলা বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উভয় পক্ষেই ব্যাপক হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ১৫ দফার প্রস্তাবটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ নিরসনে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ তৈরি করতে পারে। তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, ইসরায়েলের অবস্থান এবং যুদ্ধের ময়দানের পরিস্থিতির ওপর। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সমাধান নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।

সূত্র: আনাদোলু।

মানবকণ্ঠ/ডিআর