Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মাঝে টানা দুই দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। সংঘাত নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না আসায় এবং মার্কিন মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। খবর রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৭৬ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,৪৫৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। শুধু স্বর্ণ নয়, রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে হ্রাস পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করলেও এই মুহূর্তে সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, ইরান পরাজয় মেনে না নিলে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি স্বর্ণের দাম নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ে, যা সাধারণত স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে দেয়। তবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ায় স্বর্ণের চাহিদাই উল্টো চাপে পড়েছে।

ক্যাপিটাল ডট কম-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কাইল রড্ডা জানান, বিনিয়োগকারীরা এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন ইরান সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের খবরের ওপর। যদি যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হয় বা ছড়িয়ে পড়ে, তবে স্বর্ণের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

মানবকণ্ঠ/আরআই