রাজশাহীতে মব সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে পেটানোর পর তাঁর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর শাহ মখদুম থানা সংলগ্ন পবা নতুনপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
ফিরোজ খান ফরহাদ নামের ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে ড্রেনের ভেতর ফেলে মারধরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি শাহ মখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি ঢাকায় থাকেন। তবে মাঝে মাঝে অল্প সময়ের জন্য বাড়ি আসতেন। এবার ঈদ করতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। মারধরের পর তিনি ভয়ে হাসপাতালে থাকতে পারেননি। গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে কবিরাজের চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফিরোজ খানের অভিযোগ, শাহ মখদুম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন আলী, তাঁর নিকট আত্মীয় শাকিব, লালন, মনাসহ কয়েকজন তাঁকে বেদম মারধর করেছেন। এতে তাঁর বাঁ হাত ভেঙে গেছে। এ ছাড়া বাঁ হাতের বাহু ও কোমরের হাড়ে ফাটল ধরেছে। কবিরাজ হাতে প্লাস্টার করে দিয়েছেন। কোমরে বাঁশের বাতা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ফিরোজ খান জানান, তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। তাই মাঝে মাঝে এলাকায় যেতেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে দেখতে পেয়ে মামুন চা খাওয়ার জন্য ডাকে। এ জন্য তিনি মোটরসাইকেল থেকে নামেন। এরপরই অন্যরা এসে তাঁকে কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে মারতে মারতে ড্রেনের ভেতর ফেলে দেয়। থানার পাশেই এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ আসেনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ভয়ে তিনি হাসপাতালে না থেকে গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ি চলে গেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মারধরের পর শাকিব তাঁর ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেলটি কেড়ে নিয়েছেন। এলাকার কিছু ব্যক্তিকে তিনি মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। তাদের শাকিব জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুন আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে ফিরোজ মানুষকে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। নির্যাতিত মানুষ এলাকায় পেয়ে তাকে শায়েস্তা করেছে।’
অভিযুক্ত শাকিব দাবি করেন, ঘটনার ব্যাপারে তার কিছু মনে পড়ছে না। তিনি নিজে এসবের সঙ্গে যুক্ত নন। মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।
শাহ মখদুম থানার ওসি ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে কাউকে পায়নি। থানায় কেউ কোনো মোটরসাইকেল জমা দেয়নি। এ নিয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।




Comments