শুক্রবার (২৭ মার্চ) নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার একদিন পরই কঠোর অবস্থানে জেন-জি আন্দোলনের নেতা বালেন্দ্র শাহ। গ্রেপ্তার করা হল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে। গ্রেপ্তার হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।
নেপালে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেন-জি তথা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে ওলির সরকারের পতন ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও বেকারত্বের প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয় যার নেতৃত্বে ছিলেন জনপ্রিয় র্যাপ শিল্পী ও কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৯-৩০ জনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষোভকারীরা সংসদ ও সরকারি অফিস ভাঙচুর করে। এর এক পর্যায়ে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী ওলি।
এরপর সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই সরকারের নেতৃত্বে গত ৫ মার্চ দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে পার্লামেন্টের ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হয় বালেন্দ্রের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)।
শুক্রবার নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মাত্র ৩৫ বছর বয়সি বালেন্দ্র। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ওলি ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হলো।
কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেছেন, ‘তাদের সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’
ওলি তার গ্রেপ্তারের এই পদক্ষেপকে ‘প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে নেপালের বর্তমান সরকার তার এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং একে ‘প্রতিশ্রুতি পালন’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি এবং বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশকে নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এটা কারও বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ নয়। এটা কেবল ন্যায়বিচারের সূচনা। আমি মনে করি, এবার এই দেশ নতুন দিশা পাবে।’




Comments