যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ২৯তম দিনে গড়িয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে তেহরানের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধে সাফল্য দেখানো ‘শাহেদ’ ড্রোনের অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত সংস্করণ এখন ইরানকে সরবরাহ করছে মস্কো। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন দিয়েই ইউক্রেন যুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার করেছিল রাশিয়া। এবার সেই ড্রোনকেই আরও শক্তিশালী করে ইরানে ফেরত পাঠাচ্ছে তারা। নতুন এই সংস্করণে যুক্ত করা হয়েছে জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই ড্রোনগুলো ইরানের হাতে পৌঁছালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার ছদ্মবেশে ট্রাকে করে এসব ড্রোন ইরানে পাঠানো হচ্ছে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই তথ্য অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, অন্য দেশ ইরানকে যা-ই দিক না কেন, মার্কিন অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় যৌথ সামরিক অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলের ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর প্রথম আঘাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজনী ও আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বহু শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছে দেশটি।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান রুখতে রাশিয়ার এই আধুনিক ড্রোন ইরানকে নতুন শক্তি যোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments