Image description

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের নির্মাণাধীন বি১ সেতু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের নির্মাণাধীন বি১ সেতু আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর চালানো এই হামলায় কয়েকজন আহত হন। ১৩৬ মিটার উঁচু সেতুটি তেহরান ও কারাজ শহরকে সংযুক্ত করার জন্য নির্মাণাধীন ছিল।

এই হামলার পরই ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আটটি প্রধান সেতুর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। ‘ইটের বদলে পাটকেল’ জাতীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে সেতুর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই তালিকায় রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু; সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শেখ জায়েদ সেতু, আল-মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু; সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযোগকারী কিং ফাহাদ কজওয়ে এবং জর্ডানের কিং হুসেন সেতু, দামিয়া সেতু ও আবদুন সেতু।

হামলার শিকার বি১ সেতুটি যে অঞ্চলে অবস্থিত, সেই আলবোর্জ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ঘোদরাতুল্লাহ সাইফ রাষ্ট্রীয় টিভি ও ফারস নিউজকে বলেছেন, এই হামলায় ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামলার পর সেতুর বড় একটি অংশ ধসে পড়তে দেখা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরান থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বি১ সেতু থেকে ধোঁয়া ওঠার ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি বেশ দম্ভভরে বলেছেন, পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান আলোচনার টেবিলে না বসলে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ভেঙে পড়েছে, যা আর কখনো ব্যবহার করা যাবে না। এ রকম আরও অনেক কিছু ঘটবে। ইরানের জন্য খুব দেরি হওয়ার আগে এটাই সময় একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর। যেন এমন কিছু অবশিষ্ট থাকে, যা দিয়ে দেশটিকে আবারও মহান করে তোলা যায়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘নির্মাণাধীন সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি কেবল বিশৃঙ্খলায় থাকা শত্রুর পরাজয় এবং নৈতিক অবক্ষয়কেই ফুটিয়ে তোলে।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম থাকা ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।