Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান ও পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জনসংযোগ শাখা বিভিন্ন প্রদেশে চালানো একাধিক সফল প্রতিরক্ষা অভিযানের তথ্য জানিয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমগুলো এ দিনটিকে ‘মার্কিন-ইসরাইলি বিমানবাহিনীর কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

বিবৃতি আরও জানানো হয়, আইআরজিসি-র অ্যারোস্পেস ডিফেন্স ফোর্সের যুদ্ধবিমানগুলো খোমেইন এবং জানজান প্রদেশের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

এছাড়া, ইসফাহানের আকাশে দুটি এমকিউ-৯ অ্যাটাক ড্রোন এবং বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি হার্মিস ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, দেশের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অধীনে তাদের নতুন উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।

সাধারণত, ইরানের এই ধরনের দাবির পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। শুক্রবার ইরানের পক্ষ থেকে প্রথমে একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে সেন্টকম 'ফ্যাক্ট চেক' করে জানায় যে, তাদের সব বিমান অক্ষত আছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে ভিডিও ফুটেজ জারি করা হয়।

তবে এর মাঝেই মার্কিন এবং ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে তবে সেটি এফ-৩৫ নয়, এফ-১৫ই মডেলের বিমান। বিধ্বস্তের পর দুজন পাইল নিখোঁজ আছেন। পাইলটদের উদ্ধারে বিমান এবং হেলিকপ্টার দিয়ে অভিযানে নামে যুক্তরাষ্ট্র। 

অপরদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেশটির সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে ঘোষণা দেয়া হয় যে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত ধরে দিতে পারলে পুরস্কৃত করা হবে।

পরবর্তীতে পাইলটদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া আরও একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি করে ইরান। সেটিরও ভিডিও প্রকাশ করে দেশটির স্বসস্ত্র বাহিনী। এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খুব নিচ দিয়ে উপড়তে থাকা দুটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে রাইফেল দিয়ে গুলি করছে ইরানের পুলিশ।

মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনাগুলো ঘটার কথা নিশ্চিত করেনি।

তবে বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে। যদিও কেউ নাম প্রকাশ করে এটি বলেননি, তবে এটা বলা যায় যে মার্কিন সরকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে।