আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া সাবেক মেজর জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের তার কোনো কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশিয়ান গ্রুপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে সর্বদা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে।
নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশের গর্ব সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে আমাদের সর্বদা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু আবু সাঈদ মো. মাসুদের মতো কিছু ব্যক্তি সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমি শুধু বলতে চাই, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর পক্ষে আশিয়ান গ্রুপ সর্বদা ছিল এবং আগামীতেও থাকবে। তারা যেন কারো ছলনায় আমাদের ভুল না বোঝেন। সেনাবাহিনী জাতির রক্ষক, তারা আমাদের সুরক্ষা করে চলেছে।”
তিনি জলসিঁড়ি প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো আবাসন প্রতিষ্ঠান সাহস করেনি। আশিয়ান গ্রুপ এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে এবং নিজস্ব অর্থায়নে জমি ক্রয় করে প্রকল্পটি সফল করেছে। কিন্তু তৎকালীন জলসিঁড়ি প্রকল্পের চেয়ারম্যান সাঈদ মাসুদ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সাধারণ সেনা কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে আশিয়ান গ্রুপের বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছেন। ফলে আশিয়ান গ্রুপ ও সাধারণ সেনা সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, “জলসিঁড়ি প্রকল্পের ১২০০ বিঘা জমি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে সেই বন্ধকী জমি সেনা সদস্যদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।”
তিনি অভিযোগ করেন যে, সাবেক মেজর জেনারেল সাঈদ মাসুদ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আশিয়ান গ্রুপকে ক্ষতিগ্রস্ত করেই ক্ষান্ত হননি, বরং সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। তার এমন অপকর্ম থেকে সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “ছলনা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি যে জমি দখল করেছেন, আমরা তা ফেরত চাই। তিনি আমাদের আর্থিকভাবে যে ক্ষতি করেছেন এবং মানসিকভাবে যে নির্যাতন চালিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে বিচার চাই।”
আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, “যেকোনো বিষয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে বা সন্দেহ হলে আমি সর্বদা তার উত্তর দিতে প্রস্তুত। সেনাবাহিনীর যদি এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমার কাছে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আমি শুধু চাই, তারা প্রয়োজনে আমাদের জমি রেজিস্ট্রেশন করে নিয়ে যাক এবং আমাদের পাওনা অর্থ দিয়ে যাক।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছর আইনের শাসন ছিল না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে থানায় মামলা দিতে গেলেও হয়রানির শিকার হতে হতো। ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর প্রতিকূল পরিবেশের অবসান ঘটেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা উদ্ধারে বর্তমান ও সাবেক সেনা সদস্যরা ভূমিকা রাখবেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, সাঈদ মাসুদ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ লন্ডনে তার পরিবারের কাছে পাচার করেছেন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে কয়েক হাজার বিঘা সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পকে দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে অবৈধ অর্থসহ আত্মগোপনের চেষ্টার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত সাঈদ মাসুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বিচক্ষণ সেনাবাহিনী তার এই মিথ্যা কথায় আর বিশ্বাস করবে না। আশিয়ান গ্রুপ দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।




Comments