বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল পাস
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও 'নোট অব ডিসেন্ট' উপেক্ষা করেই পাস হয়েছে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৬ রহিতকরণ বিল’। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই বিলসহ মোট সাতটি বিল পাস করা হয়।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে পৃথকভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করেন। এগুলো হলো— সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য যে স্বতন্ত্র সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, এই বিল পাসের মাধ্যমে তা বাতিল হয়ে গেল। এছাড়া মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রে ২০০৯ সালের আইনটি পুনরায় কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদের বিশেষ কমিটিতে এই বিলগুলো নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিল উত্থাপনের সময় স্বীকার করেন যে, বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যাদেশগুলো রহিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
একই অধিবেশনে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল’সহ আরও সাতটি বিল পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) বিল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) বিল, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল, ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল এবং বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিলগুলো নিয়ে কোনো দীর্ঘ আলোচনা হয়নি। অধিকাংশ বিলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments