ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে। বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের অবস্থান বর্তমানে বেশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মুদ্রাবাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান নির্দেশক ‘ডলার ইনডেক্স’ বর্তমানে ৯৯ দশমিক ০৭ পয়েন্টে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ কমে ১ দশমিক ১৬৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ১৫৮ দশমিক ৮১ ইয়েন হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই যুদ্ধবিরতি শর্তসাপেক্ষ। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং ইরানের পক্ষ থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে। এই দুই সপ্তাহের বিরতি একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি আসে তার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল করতে ট্রাম্পকে এই সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনি তেহরানকেও সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার আহ্বান জানান।
আপাতত এই দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেলেও, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ও মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments